ঐশী’র কাছে একজন গায়িকার চিঠি

প্রিয় ঐশী,
তুমি এখন দেশের পরিচিত একটি নাম তবে সে নাম তুমি কোন গৌরবের কাজ করে অর্জন করতে পারোনি । করেছ বাবা-মাকে হত্যার মতো একটি জঘন্যতম অপরাধ। যেদিন তুমি তোমার বাবা-মাকে খুন করেছো সেদিন থেকে আমি সহ গোটা সমাজের লোকের দৃষ্টি ছিল তোমার দিকে। আমাদের সমাজের অনেকেই সেদিন থেকে তোমাকে ঘৃণা আর ক্ষোভের দৃষ্টিতে দেখছেন। পুলিশের তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী তুমি একটি নেশাগ্রস্থ মেয়ে। কয় দিন আগে বাবা-মাকে হত্যার শাস্তি সরূপ মহামান্য আদালত তোমাকে ডাবল মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয়। আর এই নিয়ে তখন থেকে শুরু হয় সমাজের মানুষের মিশ্র পতিক্রিয়া।

কেউ, কেউ তোমার এই রায়ে খুশি আবার কেউ, কেউ বলছে্ন বাবা-মায়ের বেখেয়ালের জন্যই তোমার আজ এই অবস্থা। তাই তাদের দৃষ্টিতে তুমি নির্দোষ। এবং তারা তোমার মুক্তি চায়। এবার ঐশী তুমি সহ গোটা সমাজের কাছে আমার প্রশ্ন
কোন বাবা-মা কি চায় তার সন্তান খারাপ পথে যাক?
চায় না। তুমিতো কোন অভাব গ্রস্থ পরিবারের সন্তান ছিলেনা। যে দারিদ্র্যতার নির্মম কষাঘাতে তুমি জর্জরিত হয়ে এই পথ বেছে নিয়েছো?
তুমি যেটা করেছো সেটা সখের বসে করেছো। অসৎ বন্ধু, বান্ধবিদের সাথে মিশে সখের বসে বেছে নিয়েছ নেশা এবং বেহায়াপনার জীবন।

তোমার বাবা-মা কি তোমাকে নেশা করতে বলেছিল?
বলেননি, বরং প্রথমে তুমি তাদেরকে লুকিয়ে খারাপ কাজ গুলো করতে। পরে তারা যখন জানলো, তোমাকে সেই খারাপ পথ থেকে ফেরাতে চেষ্টা করলো। আর তখনই তোমার কাছে তারা হয়ে গেলো শত্রু।
যার কারণেই তুমি সু-পরিকল্পিত ভাবে তোমার বাবা মাকে খুন করো।
অনেকে বলছেন তুমি খুনের সময় নেশা গ্রস্থ ছিলে তাই তোমার এই রায় তারা মানে না।

যদি তাই হয় তাহলে আমি বলবো এই খুনের পরিকল্পনাতো তুমি একদিনে করোনি সময় নিয়ে করেছিলে। তাহলে খুনের পরিকল্পনা করার সময় প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত কি তুমি নেশা গ্রস্থ ছিলে?
নিশ্চয়ই না। যে মা তোমাকে ১০ মাস গর্ভে ধারণ করলো, ভালোবাসা, আদর, মমতা, দিয়ে আঁচল ছায়ায় বড় করলো তাকে মেরে ফেলার কথা চিন্তা করার সময় তোমার বুকের ভিতরটা কি একবারও কাপলোনা ঐশী?
যে বাবা দিনের পর দিন ঘাম ঝরিয়ে উপার্জন করে তোমার মুখে অন্ন তুলে দিতেন সেই বাবা কে মেরে ফেলার সময় তোমার বিবেক একবারও বাধা দেয়নি ঐশী?
শুধু মাত্র নিজের বেপরোয়া জীবনের কথা ভেবে মা-বাবাকে মেরে ফেলতে পারলে ঐশী? বাবা-মায়ের চেয়ে নেশা আর অসৎ বন্ধু-বান্ধবিরাই তোমার কাছে বড় হয়ে গেলো?

শুধু তুমি না সমাজে প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটছে টিভি কিংবা পত্রিকার পাতা খুললেই দেখতে পাই ছেলের হাতে বাবা-মায়ের জোড়া খুন। কারণ হিসেবে দেখা যায়, নেশা, জমি সংক্রান্ত বিষয় কিংবা নিজের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করাতে বাবা-মা রাজি না হলেই ঘটছে এমন দুর্ঘটনা। নিজের কলিজার টুকরা সন্তানের হাতে খুন হওয়ার জন্যই কি মা ১০ মাস সন্তানকে গর্ভে ধারন করে? অনেক বাবা-মা নিজের সর্বস্ব ত্যাগ করে সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়ে বড় করে । সেই সন্তান যখন ভালো চাকরি করে কিংবা ব্যাবসা করে তখন বাবা-মা ভাবেন এই বুঝি তাদের দুঃখের দিন শেষ, এইবার একটু শান্তির মুখ দেখবেন । সন্তানের সুখের জন্য লাল টুকটুকে একটি বউ এনে দেয় ।

আর সেই সন্তানের কাছে বাবা-মা কয়েক দিনের মধ্যেই হয়ে ওঠেন বোঝা। সন্তানের ফ্ল্যাটে তাদের আর জায়গা হয় না। তাদের জায়গা হয় রাস্তার পাশের কোন বস্তিতে, কিংবা কোন বৃদ্ধাশ্রমে। কোন, কোন বাবা রিক্সা চালানো কিংবা কঠিন কোন কাজ বৃদ্ধ বয়সে বেছে নেন শুধু মাত্র বেঁচে থাকার তাগিদে আর মা কারো বাসায় কাজ করেন কিংবা ভিক্ষা করে বাকিটা জীবন কাটিয়ে দেন। ভালোবাসার মানুষের জন্য আমারা নেশা করতে পারি, জীবনটাকে তিলে তিলে নিঃশেষ করে দিতে পারি ,আত্মহত্যা করতে পারি, চোখের পানিতে সারারাত কেঁদে বালিশ ভেজাতে পারি, না খেয়ে ২/৩ দিন খুব সহজে কাটিয়ে দিতে পারি কিন্তু…কিন্তু যে বাবা-মা আমাদের একটু সুখের জন্য নিজের সবটুকু সুখ বিসর্জন দিয়ে দেয় তাদের জন্য আমরা কিছুই করতে পারিনা, শুধু কষ্ট ছাড়া আর কিছুই দিতে পারিনা। এমন কি মেরে ফেলতেও আমাদের বিবেকে এতো টুকু বাধেনা ।

ঐশীকে ফাঁসি দিলে যদি সমাজের প্রতিটি নেশা গ্রস্থ কিংবা বিবেক হীন সন্তানদের বিবেক বোধ জাগ্রত হয়, যদি আর কোন বাবা-মাকে সন্তানের হাতে খুন না হতে হয়, যদি আর কোন বাবা-মায়ের জায়গা বৃদ্ধাশ্রমে না হয়, তাহলে আমি ঐশীর ফাঁসি চাই । আর যদি তাই না হয় আবারো এই ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটে তাহলে আমি এই ফাঁসি চাই না ।
Share on Google Plus

About bollywood-about-news.blogspot.com

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.
    Blogger Comment

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন